পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির সম্প্রসারণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় লোকজন। - সূর্য উদয়


পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির সম্প্রসারণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় লোকজন।

0
আসমাউল মুত্তাকিন (পার্বতীপুর প্রতিনিধি ) দিনাজপুর :
পর্যাপ্ত ক্ষতিপুরণের দাবিতে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উত্তর-দক্ষিণ অংশ সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) কাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় কয়েকটি গ্রামের লোকজন। গত শনিবার (২৫/১১/১৭) থেকে ফিজিবিলিটি স্টাডির যাবতীয় কাজ বন্ধ রয়েছে। এতে করে কয়লা খনির ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কায় পড়েছে খনি কর্তৃপক্ষ।এদিকে ফিজিবিলিটি স্টাডি কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ থাকার জন্য প্রতিদিন প্রায় ৭ লাখ (৮ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলার) টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।

জানা গেছে, বড়পুকুরিয়া খনি থেকে বছরে গড়ে প্রায় ৯ লাখ টন কয়লা উৎপাদন করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি বছরে উৎপাদন আরও ৬ লাখ টন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বড়পুকুরিয়া কোল বেসিনের সেন্ট্রাল পার্টের উত্তর অংশে ১.৫ বর্গ কিলোমিটার এবং দক্ষিণ অংশে ৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকা এক্সটেনশন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য ৭৭ কোটি ৫৯ লাখ ৯৩ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় ধরে ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি ফর এক্সটেনশন অব এক্সিসটিং আন্ডারগ্রাউন্ড মাইনিং অপারেশন অব বড়পুকুরিয়া কোল মাইন টুওয়ার্ডস দ্যা সাউদার্ণ এন্ড দ্যা নর্দার্ণ সাইড অব দ্যা বেসিন উইদাউট ইন্টারাপশন অব দ্যা প্রেজেন্ট প্রোডাকশন (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারী প্রকল্পটি অনুমোদন করে। ৬৮ কোটি ৩১ লাখ ৩৭ হাজার টাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আমেরিকান জন টি বয়েড এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠান মজুমদার এন্টারপ্রাইজ। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ১৮ মাসের মধ্যে ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ শেষ করতে হবে। এ লক্ষে ২ মার্চ তারা কাজ শুরু করে।
ফিজিবিলিটি স্টাডির মধ্যে রয়েছে- টপোগ্রাফিক সার্ভে, ৩-ডি সাইসমিক সার্ভে, ১৫টি বোরহোল ড্রিলিং, ইআইএ, ইএমপি, আরএপি, হাইড্রোজিওলজিক্যাল স্টাডি, জিওলজিক্যাল এবং জিওফিজিক্যাল লগিং সহ অন্যান্য কাজ।
সুত্র জানায়, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আলোচনা করে শস্য ক্ষতিপূরণ এবং জমির ক্ষতিপূরণ প্রদান করে বোরহোল খনন শুরু করা হয়। ইতিমধ্যে ১৫টি বোরহোলের মধ্যে ৫টি বোরহোল খনন সম্পন্ন হয়েছে। ৩-ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনার পূর্বে সার্ভে এলাকার সকল জনগণের সঙ্গে আলোচনা করে বর্তমান বাজার মূল্যের চেয়ে ৩ গুণেরও বেশী শস্য ক্ষতিপূরণ নগদ অর্থে প্রদান করা হয়। ফিজিবিলিটি স্টাডি এলাকার ১ হাজার ৪ জন কৃষককে শস্য ক্ষতিপূরণ বাবদ মোট ১৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। কিন্তু খনি এলাকার অনেক বাইরে অবস্থিত উত্তর ও দক্ষিণ দিকের কাজিপাড়া, চৌহাটি, হামিদপুর, মোবারকপুর, বৈগ্রাম, কাশিয়াডাঙ্গা, পাতিগ্রাম, পাঁচঘরিয়া, কালুপাড়া ও রসুলপুর গ্রামের জনগণও শস্য ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন প্রকার আর্থিক দাবি উপস্থাপন করে ফিজিবিলিটি স্টাডি কাজ বন্ধ করে দেয় ।
বড়পুকুরিয়া কয়লা কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদ ও উত্তর-দক্ষিণ অংশ সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবিএম কামরুজ্জামান ফিজিবিলিটি স্টাডির সকল কাজ বন্ধ থাকার কথা স্বীকার করে জানান- বড়পুকুরিয়া কোল বেসিনের উত্তর ও দক্ষিণ দিকের ১০টি গ্রামের কোন স্থাপনার কোন প্রকার ক্ষতি না হলেও এসব গ্রামের লোকজন তাদের ঘরবাড়ী ফাটলের জন্য কয়লা খনিকে দায়ী করে ক্ষতিপূরণ দাবি করে। ক্ষতিপূরণ প্রদান করা না হলে ফিজিবিলিটি স্টাডির কোন কার্যক্রম তারা পরিচালনা করতে দিবে না বলে লাঠিসোটা নিয়ে স্টাডি কার্যক্রম পরিচালনাকারী দেশী-বিদেশী জনবলকে গালিগালাজ এবং মারধর করতে উদ্যত হয়। এ অবস্থায় বিসিএমসিএল স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় গ্রামগুলোর সকল ঘরবাড়ী সার্ভে করে এবং কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে ফাটলের ধরন অনুযায়ী ঘরবাড়ী প্রতি সর্বনিম্ন ৬ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ/অনুদান প্রদানের ব্যবস্থা নেয়া হয়। গত রোববার সকাল থেকে কোম্পানির পক্ষ হতে চেক বিতরণের উদ্যোগ নেয়া হলেও একটি স্বার্থান্বেষী মহলের যোগসাজসে কতিপয় ব্যক্তি ক্ষতিপূরণ/অনুদানের অর্থের পরিমাণ কম হয়েছে বলে তা গ্রহণে অসম্মতি জানায়।
খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও জানান, ফিজিবিলিটি স্টাডি কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের আমেরিকান, চীনা এবং দেশীয় প্রায় সাড়ে ৩ শ জনবল গত তিনদিন ধরে হাতপা গুটিয়ে বসে আছে। কাজ বন্ধ থাকায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রতিদিনের জন্য ৮ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। এছাড়াও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা বন্ধ থাকার জন্য প্রতিদিন অধিক পরিমাণ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্টাডি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কয়লা উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে না এবং নিকট ভবিষ্যতে খনি হতে কয়লা উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকশি করেন।

দৈনিক সূর্য উদয়/মাসুদ খান

Share.

Leave A Reply

Translate »